শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেখ পরিবারের হলের নাম বদলের প্রস্তাব শিবিরের
রকিব হাসান প্রান্ত, জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শেখ পরিবারের নামে থাকা ৪ টি হলের নাম পুনঃনির্ধারণের প্রস্থাবনা করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাবি শাখা। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ইয়ামিন, শ্রাবণ গাজী, নাফিসা মারওয়াসহ সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে নিহত ফেলানি ও শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের নাম প্রস্তাব দেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এই প্রস্তাবনা করে সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে থাকা হলগুলোর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত যুগোপযোগী এবং প্রশংসনীয়
বলে জানানো হয়,জাতীয় ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার সংগ্রামের স্মৃতি অম্লান রাখতে হলে আবাসিক হলগুলোর নামকরণ হওয়া উচিত প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিবর্গ বা ঘটনার নামে, যাঁরা সত্যিকার অর্থে দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন অথবা যাঁদের আত্মত্যাগ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণামূলক হয়ে থাকবে।
এতে চারটি হলের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণের দাবি জানান তারা। এগুলো হলো- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের
পরিবর্তে শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক হল,শেখ রাসেল হলের পরিবর্তে শহীদ শ্রাবণ গাজী হল/শহীদ আসহাবুল ইয়ামিন হল, শেখ হাসিনা হলের পরিবর্তে শহীদ নাফিসা হোসেন মারওয়া হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের পরিবর্তে শহীদ ফেলানি খাতুন হল।
স্মারকলিপিতে প্রস্তাবিত নামগুলোর পেছনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে জানানো হয়, শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক উপমহাদেশের প্রজ্ঞাবা রাজনীতিবিদ।যিনি জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করে কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলার প্রথম নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ হন আসহাবুল ইয়ামিন, শ্রাবণ গাজী এবং নাফিসা হোসেন মারওয়া। স্মারকলিপিতে জানানো হয়, মালয়েশিয়াফেরত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার শহীদ শ্রাবণ গাজী এবং এমআইএসটির শিক্ষার্থী আসহাবুল ইয়ামিন সাভারে আন্দোলনকালে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। এইচএসসি পরীক্ষার্থী নাফিসা হোসেন মারওয়াও সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
এছাড়া ২০১১ সালে কুড়িগ্রামের ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানিকেও সীমান্ত সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে প্রস্তাবিত নামগুলো বিবেচনা করার দাবি জানিয়ে
বলা হয়, যারা স্বৈরাচার ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনাগুলোর নাম তাদের নামে হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা হবে একটি শিক্ষণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক নিদর্শন।
উল্লেখ, গত ১৭ মার্চ শেখ রাসেল হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শেখ হাসিনা হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। এসব স্থাপনার নতুন নামকরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অংশীজনদের কাছ থেকে নাম প্রস্তাবের আহ্বান জানায় কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জাবি শাখা এই স্মারকলিপি দেয়।